শিক্ষক-শুধু একটি পেশার নাম নয়;
এটি একটি মহান দায়িত্ব, একটি আমানত এবং একটি প্রজন্ম নির্মাণের অঙ্গীকার। একজন চিকিৎসক একজন মানুষের জীবন রক্ষা করেন, একজন প্রকৌশলী একটি স্থাপনা নির্মাণ করেন; কিন্ত একজন আদর্শ শিক্ষক নির্মাণ করেন মানুষ, মনন, চরিত্র ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই একজন শিক্ষকের প্রভাব তাঁর শ্রেণিকক্ষের সীমানা অতিক্রম করে বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। একজন শিক্ষকের হাতে একটি বই যেমন থাকে, তেমনি থাকে অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। তাঁর একটি কথা একজন শিক্ষার্থীকে এগিয়ে দিতে পারে, আবার অনর্থক একটি আচরণ তাকে নিরুৎসাহিতও করতে পারে। তাঁর ব্যক্তিত্ব, সময়ানুবর্তিতা, জ্ঞান, আচরণ, ন্যায়পরায়ণতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা-সবকিছুই শিক্ষার্থীর কাছে নীরব পাঠ হয়ে ওঠে। এ কারণেই সফল শিক্ষক হওয়ার জন্য শুধু কোনো বিষয়ে ভালো জ্ঞান থাকাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন জ্ঞানকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করার দক্ষতা, শিক্ষার্থীকে বোঝার যোগ্যতা এবং
নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার মানসিকতা।
বর্তমান পৃথিবী দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শেখার ধরন পরিবর্তিত হয়েছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, তথ্যের পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শিক্ষকের প্রচলিত ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন অনেক দায়িত্ব। এখন একজন শিক্ষককে শুধু পাঠদান করলেই চল বে না; তাঁকে হতে হয় শিক্ষার্থী-মনোবিজ্ঞানী, পরামর্শদাতা, মূল্যায়নকারী, গবেষক, প্রযুক্তিবান্ধব শিক্ষাবিদ এবং সর্বোপরি একজন আদর্শ মানুষ। এই বাস্তবতা থেকেই "সফল শিক্ষক" হওয়ার নিয়ত করা, না হলে আর কিছুদিন পর আপনার মত শিক্ষক ছাত্রদের কাছে লান্চিত বা অপমানিত হবে,
তাই এখন থেকে ভাল শিক্ষক হওয়ার নিয়াত করা।

No comments:
Post a Comment